চারদিনের কর্মসপ্তাহ গ্রহণের হার বেড়েছে যুক্তরাজ্যে

চারদিনের কর্মসপ্তাহ বেছে নেয়া ব্রিটিশ কর্মীদের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাড়ছে।

চারদিনের কর্মসপ্তাহ বেছে নেয়া ব্রিটিশ কর্মীদের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাড়ছে। কভিড মহামারীর অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এ প্রবণতা বেড়েছে। দেশটির অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে দুই লাখেরও বেশি কর্মী চারদিনের কর্মসপ্তাহ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে এক লাখেরও বেশি পূর্ণকালীন কর্মী রয়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ওএনএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ১৪ লাখ পূর্ণকালীন কর্মী চারদিনের কর্মসপ্তাহ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন, যা ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় এক লাখের বেশি। এ প্রবণতার ফলে মোট কর্মীর মধ্যে চারদিনের কর্মসপ্তাহ গ্রহণকারীদের হার ৯ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বেতন না কমিয়ে চারদিন অর্থাৎ ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহকে প্রচলিত করতে প্রচারণা চালাচ্ছে ‘ফোর ডে উইক ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন। তারা বলছে, তিনদিন ছুটির ফলে কর্মীরা বিশ্রাম ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়ার জন্য বেশি সময় পান। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের মনোযোগ বৃদ্ধি, তাদের ধরে রাখা ও নিয়োগে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

কর্মসপ্তাহ হ্রাসের এ পরিবর্তনে বড় উদাহরণ স্থানীয় সরকারের পরিষেবা সংস্থা সাউথ কেমব্রিজশায়ার ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল। ২৭ মাসব্যাপী একটি সফল পরীক্ষার পর স্থায়ীভাবে চারদিনের কর্মসপ্তাহ নীতি গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। তারা জানিয়েছে, চারদিনে কর্মসপ্তাহ নীতি কার্যকর হওয়ার পর আবাসন মেরামত ও আবেদন প্রক্রিয়াকরণের মতো বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের গতি বেড়েছে। এছাড়া কর্মীদের কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি ও চাকরি ছাড়ার হার কমায় বার্ষিক প্রায় ৪ লাখ পাউন্ড সাশ্রয় হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নতুন লেবার সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিজেদের কর্মসংস্থান নীতি বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। স্কটিশ সরকার ২০২৪ সালের শুরুতে চারদিনের কর্মসপ্তাহের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে, যার ফলাফল শিগগিরই প্রকাশিত হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কভিড মহামারীর কর্মজীবনের প্রচলিত ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। যার ফলে কর্মীদের কর্মঘণ্টা কমানোর অধিকার নিয়ে একটি নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর নেতৃত্বে রয়েছে মার্কেটিং, প্রযুক্তি ও দাতব্য খাতের সংস্থাগুলো। তারা দেখিয়েছে, পরিমাণ না কমিয়েও কম সময়ে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। যা শুধু কর্মী নয় প্রতিষ্ঠানের জন্যও ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে।

আরও